পেলের প্রশংসায় জর্জরিত ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো জানালেন গল্প এখনো বাকি

cristiano ronaldo

ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোকে চিনে না এমন কোন ফুটবলপ্রেমী নেই. তিনি পর্তুগাল এর জাতীয় দলের ফুটবল খেলোয়ার. ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো প্রথম ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে খেলে তারপর সেখান থেকে রিয়াল মাদ্রিদে আসে. তারপর সেখান থেকে আবার জুভেন্টাসে আসে. একজন ফুটবল প্লেয়ারের ভবিষ্যৎ কেমন হতে পারে সেটা তার খেলা দেখেই আমরা অনেকটা আন্দাজ করতে পারি. কিন্তু এই ক্ষেত্রে সেটা যেন আমরা অনেক আগেই দেখে ফেলেছি. অনেকেই বলে ফেলেছেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর ক্যারিয়ার শেষ হয়ে গেছে.  আর সেটাকে তিনি বারবার ভুল প্রমাণ করতে অনেক বেশি মরিয়া হয়ে ওঠেন এই কিংবদন্তি খেলোয়াড়. কিছুদিন আগে হঠাৎ একটি গুঞ্জন শোনা যায় যে জুভেন্টাস নাকি আর তাদের দলে রাখতে চাচ্ছে না. 29 মিলিয়ন ইউরোর বিনিময়ে তাকে নাকি বিক্রি করে দেওয়া হবে. আরণ উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগ থেকে জুভেন্টাসের  ভালো না খালার কারণ হিসাবে রোনালদোকেই বেছে নিয়েছে. তারপর সব সমালোচনাকারীদের বুড়ো আংগুল দেখিয়ে দিয়েছেন পর্তুগিজ এই কিংবদন্তি.

2020 সালের 6 জানুয়ারির পর এই প্রথম হ্যাটট্রিকের দেখা পেলেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো. তার শেষ হ্যাটট্রিকটি ছিল 2020 সালের আগে. এই নিয়ে ক্লাব ক্যারিয়ারের 57 তম হ্যাটট্রিক এবং জাতীয় দল হিসেবে 48 তম এবং 37 টি ঘরোয়া লিগে হ্যাটট্রিকের সংখ্যা দাঁড়ালো.

কাগলিয়ারির মাঠে খেলা শুরুর প্রথম দশ মিনিটের মাথায় হুয়ান কুয়াদরাদোর দারুন কর্ণারে লাফিয়ে দুর্দান্ত হেডে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো জালে বল জড়ান.ম্যাচের 24 তম মিনিটে ডি বক্সের ভিতরে রোনালদোকে ফাউল করায় রেফারি পেনাল্টি দেন. তারপর এই পর্তুগিজ তারকা ম্যাচের 25 তম মিনিটে স্পর্ট কিক করে গোলের ব্যবধানে দ্বিগুণ করেন.

তার ভক্ত সমর্থকদের 13 মাস অপেক্ষা করার পর আর বেশি সময় অপেক্ষা করতে হয়নি এই ম্যাচটিতে.কারণ 32 তম মিনিটের মাথায় দুর্দান্ত আরেকটি গোল করে হ্যাটট্রিক সম্পূর্ণ করেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো. তার 57 তম হ্যাটট্রিক টি হয় এই ম্যাচটিতে. ফেদেরিকো চিয়েসার কে পাশ কাটিয়ে কোনাকুনিভাবে শটে বল জড়ান তিনি. 20/21 মৌসুমে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর সিরিয়াতে এখন পর্যন্ত গোল সংখ্যা 23টি. এখন পর্যন্ত তিনি এই মৌসুমে সর্বোচ্চ গোলদাতা এই সিরিয়াতে.

আর এই হ্যাটট্রিকের মাধ্যমেই তিনি জবাব দিলেন সব সমালোচকদের. কিংবদন্তি পেলে কে আমরা  চিনি না এমন কেউ নেই. আনুষ্ঠানিকভাবে পেলের স্বীকৃতি গোল সংখ্যা ছিল 757 টি. ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো এই ম্যাচে সর্বকালের সর্বোচ্চ গোল স্কোরার পেলেকে ছাড়িয়েছেন. অবশ্য তিনি অনেক আগেই ছাড়িয়েছিলেন পেলেকে. কিন্তু রোনালদো অপেক্ষায় ছিল কখন তার 767 টি গোল হবে. আর এই ম্যাচে তিনি হ্যাটট্রিক করে তার স্বপ্ন পূরণ করলেন. কেননা পেলে 757 টি বাদেও আরো 10 টি গোল করেছিলেন তার ক্যারিয়ার শেষ হওয়ার আগে, ঝুলন্ত চেয়ে ছিলেন তিনি 767 টি গোল করতে. আর সেটা হয়েছে রোববার রাতের খেলাতে. তবে স্বীকৃতি ফুটবলে রোনালদোর গোল সংখ্যা 770 টি.

রোনালদোর এই খেলার পরপরই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দুজনের একটি ছবি আপলোড করে আবেগঘন শুভেচ্ছা জানান ব্রাজিলিয়ান ফুটবলার পেলে.

সেখানে তিনি লেখেন, “জীবন একটি একক যাত্রা। প্রত্যেকেই বেছে নেয় নিজের পথ। কী একটা দুর্দান্ত ভ্রমণেই না তুমি ছুটে চলেছো! আমি তোমাকে প্রচণ্ড শ্রদ্ধা করা, তোমাকে খেলতে দেখতে ভালোবাসি এবং কারও কাছেই এটা গোপন নয়। অফিসিয়াল ম্যাচে আমার গোলের রেকর্ড ভাঙায় অভিনন্দন। আমার একমাত্র আক্ষেপ, আজকে তোমাকে জড়িয়ে ধরতে না পারায়। তবে তোমার সম্মানে, আমাদের বহু বছরের বন্ধুত্বের প্রতীক হিসেবে দারুণ মমত্ব নিয়ে এই ছবিটি আমি দিচ্ছি।”

তার কিছু সময় পর ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো তার সঙ্গে পেলের একটি ছবি আপলোড করে জানিয়ে দিয়েছেন নিজের কথাটিও. যেখানে তিনি রেকর্ড ভাঙার উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন এবং আর সবাইকে জানান দিয়েছেন রোলান্ডো এখনো শেষ হয়ে যায়নি.তিনি মনে করেন তার এখনো অনেক পথ পাড়ি দিতে হবে. তাই তিনি সবাইকে তার সঙ্গে সঙ্গী হওয়ার আহবান জানিয়েছেন.

তিনি আরো লিখেছেন যা নিচে হুবহু তুলে ধরা হলো:
“গত কয়েক সপ্তাহ খবর এবং পরিসংখ্যানে আমাকে ফুটবল ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলস্কোরার হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। যেখানে বলা হয়, আমি পেলের করা ৭৫৭ গোলের রেকর্ড ভেঙে দিয়েছি। আমি এই খেতাবের জন্য কৃতজ্ঞ। তবে আমি এখন পরিষ্কার করব, কেন এতদিন এই রেকর্ড নিজে উদযাপন করিনি।
আমার অনেক ভালোবাসা ও প্রশংসা মিস্টার এডসন আরান্তেস দস নসিমেন্তর (পেলে) জন্য। একইরকম সম্মান আছে বিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ের ফুটবলের জন্য। যা আমাকে নিজের গোলসংখ্যাকে ৭৬৭ পর্যন্ত যাওয়ার জন্য অপেক্ষা করিয়েছে। সাও পাওলো স্টেট দলের হয়ে ৯ এবং ব্রাজিলিয়ান মিলিটারি দলের হয়ে ১টি গোল রয়েছে পেলের। বিশ্ব এরপর বদলে গেছে মানে এই না যে আমরা নিজেদের ইচ্ছামতো ইতিহাস মুছে দেবো।
আজকে আমি আমার পেশাদার ক্যারিয়ারের ৭৭০তম স্বীকৃত গোল করেছি। সবার আগে আমি পেলেকেই স্মরণ করছি। বিশ্বের এমন কোনো খেলোয়াড় নেই যারা বড় হতে পেলের কথা শোনেনি, তার রেকর্ডের ব্যাপারে জানেনি। আমিও এর ব্যতিক্রম নই। আর এ কারণেই আমি তার রেকর্ড ভাঙতে পেরে অনেক বেশি গর্বিত। মাদেইরাতে বালক বয়সে আমি এমনটা হয়তো স্বপ্নেও ভাবতে পারতাম না।
তাদের সবাইকে ধন্যবাদ, যারা আমার সঙ্গে এই অসাধারণ যাত্রায় সঙ্গী ছিলেন। আমার সতীর্থ, প্রতিপক্ষ, সারা বিশ্বে এই সুন্দর খেলাটির সমর্থক এবং সর্বোপরি আমার পরিবার ও কাছের বন্ধুরা; বিশ্বাস করুন, আমি যে এখন এটা বলছি, আপনারা না থাকলে এটা একদমই সম্ভব হতো না।
এখন পরবর্তী ম্যাচ এবং চ্যালেঞ্জের জন্য অপেক্ষার তর সইছে না আমার। পরবর্তী রেকর্ড এবং ট্রফি! বিশ্বাস করুন, এই গল্পটা শেষ হতে এখনও অনেক বাকি। আগামীকাল মানেই ভবিষ্যত এবং জুভেন্টাস ও পর্তুগালের হয়ে অনেক কিছুই জেতা বাকি। আমার এ যাত্রায় সঙ্গী হোন। চলুন।”


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)
নবীনতর পূর্বতন